ফ্যাশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফ্যাশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বিয়েতে বর বরেণ্য....

biyer-bor
বরের শেরওয়ানির সঙ্গে অন্যান্য অনুষঙ্গও মিলিয়ে কেনা চাই বিয়ে মানেই কনেদের সাজ-পোশাক ও রূপচর্চার ধুম। তবে আজকাল বরও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জমকালো পোশাকের সঙ্গে তাদের আজকাল দেখা যায় রূপসচেতন হতে। নকশার এ অংশে থাকছে বরের বিয়ের অনুষ্ঠানে পোশাকের বিভিন্ন ধরন, রূপচর্চাসহ এসবের খোঁজ।
বিয়ের অনুষ্ঠান সার্থক করার জন্য পরিকল্পনাই সহায়ক। বললেন, কে ক্র্যাফটের উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান। বাংলাদেশে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। কেবল একটু সময় ও সুষ্ঠু পরিকল্পনাই পারে সবকিছু বাজেটের মধ্যে রেখে আপনার জীবনের এই বড় ঘটনাটি আনন্দঘন করতে।
পানচিনি: বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে পানচিনি সবার আগে হয়। এ অনুষ্ঠানটিতে মোটামুটি নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত থাকে। এ অনুষ্ঠানে পোশাকটা হয় কিছুটা হালকা নকশার। পোশাক হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন একটু ভারী কাজ করা পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি ছাটের হালকা কাজ করা পাঞ্জাবি অথবা স্যুট। পাঞ্জাবি অথবা শেরওয়ানির ক্ষেত্রে রং হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন মেরুন, সোনালি, রুপালি, হালকা নীল, হালকা হলুদ, হালকা বাদামি, সাদা, চাপা সাদা। আজকাল সুতা, জরি, চুমকি ও পাথরে কাজ করা হালকা বা ভারী ধরনের অনেক পাঞ্জাবি বা পোশাক পাওয়া যায়। স্যুটের ক্ষেত্রে হালকা ছাই, ছাই, গাঢ় নীল, চাপা সাদা রং বাছাই করতে পারেন। অনেকেই শুভ মুহূর্তে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে কালো রং পরতে পছন্দ করেন না, সে ক্ষেত্রে অন্য রংগুলো বাছাই করতে পারেন।
পাঞ্জাবির ছাট-কাটেও আছে ভিন্নতা। শেরওয়ানি ছাটের পাঞ্জাবি পরতে পারেন। শেরওয়ানি বা পাঞ্জাবির চলনে আজকাল এক ছাটের একটু টাইট ফিটিং এবং কোমরে সামান্য বাঁকানো কাট চলছে। ভি, পাঞ্জাবি বা উঁচু গলার পাঞ্জাবিও চলছে।
পায়জামার ক্ষেত্রে চুড়িদার বা সোজা কাটের আলীগড়ি পায়জামার চলন আছে। আজকাল শেরওয়ানি বা পাঞ্জাবি একটু ছোট, হাঁটু পর্যন্ত বা তার সামান্য নিচে পর্যন্ত পরার চল।
জুতার ক্ষেত্রে নাগরা বা স্যান্ডেল সু পরতে পারেন। আর স্যুটের সঙ্গে অবশ্যই সু। পাঞ্জাবির সঙ্গে রং মিলিয়ে উত্তরীয় বা শীতকালে হাতের কাজ করা শালও পরতে পারেন।
গায়ে হলুদ
আগে গায়ে হলুদ মানেই ছিল ছেলেদের সাদা অথবা ঘি রঙের সিল্কের পাঞ্জাবি। তবে আজকাল এর ভিন্নতাও দেখা যায়। সিল্ক, ধুপিয়ান, হাফ সিল্কের ওপর হালকা কাজ করা পাঞ্জাবি বা শেরওয়ানি ছাট পাঞ্জাবির চলন আছে আজকাল। পায়জামার ক্ষেত্রে চুড়িদার বা সোজা ছাটের পায়জামাও পরতে পারেন। অনেকে খাটো পাঞ্জাবিও পরতে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে ধুতি ছাটের পায়জামা নিতে পারেন। আজকাল গায়ে হলুদে বিভিন্ন রঙের প্রাধান্য রয়েছে যেমন মেহেদি রং, হালকা সবুজ, হালকা হলুদ, গেরুয়া, মেরুন, কমলা। গায়ে হলুদের জুতা হালকা ধরনের স্যান্ডেল, কোলাপুরি স্যান্ডেল বা কারুকাজ করা নাগরা ধরনের স্যান্ডেল সুও হতে পারে।
বিয়ে: বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয় সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ। তাই পোশাকটি হওয়া চাই সবার থেকে আলাদা। শেরওয়ানি বিয়ের দিনের আদর্শ পোশাক। পুরোটা সুতা বা গলায় হালকা জরি ও চুমকির কাজের শেরওয়ানি পরতে পারেন। শেরওয়ানির রঙের আছে বৈচিত্র্য। আজকাল বিভিন্ন রঙ পরার চলন এসেছে বিয়েতে। যেমন: সোনালি, রুপালি, হালকা নীল, মেরুন, কপার, সবুজ ও কমলা। তবে উজ্জ্বল রঙের পাঞ্জাবি পরতে চাইলে কনের শাড়ির রংটাও একটু খেয়াল রাখা দরকার। বরের পোশাকের রং এমন হওয়া উচিত যেন কনের পোশাকের রঙের সঙ্গে বৈপরীত্য হয়—বললেন খালিদ মাহমুদ খান। এ ছাড়া শেরওয়ানি কাটের ভারী কাজ করা পাঞ্জাবিও পরতে পারেন।
পাঞ্জাবির সঙ্গে অনুষঙ্গ: নাগরা ও পাগড়ি নির্বাচন করতে পারেন পাঞ্জাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। শেরওয়ানির রং বা তাতে কাজ করা যে রঙের, সেই রংটির পাগড়ি পরতে পারেন। অথবা এই দুই রঙের কাজ করা চুন্দ্রি পাগড়িও পরতে পারেন। আবার পাগড়িতে শেরওয়ানির কাজটি হালকাভাবে করিয়ে নিতে পারেন।
নাগরা বাছাই করতে পারেন পাঞ্জাবির রঙে। অথবা শেরওয়ানির কাপড় দিয়ে নাগরার ওপরের অংশ ও শেরওয়ানি কাজের রঙে নাগরার বর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন আপনার নাগরা।
বৌভাত: বৌভাতে প্রিন্স কোট পরতে পারেন, সেটা অনেক বেশি ঐতিহ্যময়। কেবল কলার, হাতে ও পুরো পোশাকে হালকা কাজ করা প্রিন্স কোট পরতে পারেন। আবার ভারী কাজ করাও নির্বাচন করতে পারেন। চাইলে স্যুট পরতে পারেন।
রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে, কালো, সাদা, ঘি বা হালকা সোনালি রঙের প্রিন্স কোট করতে পারেন। স্যুট পরলে চকলেট, গাঢ় নীল, কালো, হালকা বাদামি, চাপা সাদা রঙের স্যুট পরতে পারেন। আজকাল একটু বডি ফিটিং, কাটের চলন চলছে। ব্লেজারটা একটু বডি ফিটিঙে এবং প্যান্টটা চাপা সোজা ছাটের বানাতে পারেন। স্যুটের শার্ট নির্বাচন করুন স্যুটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। হালকা স্যুটে গাঢ় রঙের এবং গাঢ় রঙের স্যুটে হালকা রঙের স্লিম ফিট শার্ট নির্বাচন করতে পারেন।
টাই এর ফ্যাশনেও আজকাল পরিবর্তন লক্ষণীয়। আজকাল চিকন লম্বা টাইয়ের ফ্যাশন। চেক বা এক রঙের টাই নির্বাচন করুন স্যুট ও শার্টের রঙের সঙ্গে মিল রেখে।
প্রিন্স কোট বা স্যুট যেটাই পরুন না কেন, জুতা অবশ্যই সুন্দর ও চকচকে হতে হবে।
কোথায় কী পাবেন: ছেলেদের বিয়ের পোশাক এখন দেশের ফ্যাশন হাউসগুলো বানাচ্ছে। আড়ং, কে ক্র্যাফট, বাংলার মেলা, রঙ, মায়াসির, কুমুদিনি, আলমিরা ইত্যাদি ফ্যাশন হাউসে তৈরি পোশাক কিনতে পারবেন বা ফরমায়েশ দিয়ে বরের পোশাক তৈরি করিয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও অনেক দোকান আছে ঢাকা শহরে। পাঞ্জাবি বা শেরওয়ানি কিনতে পারেন বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন প্লাজা, রাইফেলস স্কয়ার থেকে। এ ছাড়া এলিফ্যান্ট রোডে আছে বিয়ের পণ্যদ্রব্যাদি কেনার সবচেয়ে ভালো জায়গা। স্যুট পাবেন ফিট এলিগেন্স, ওয়েস্টেক্স, ক্যাটস আই, একস্ট্যাসি, রেমন্ড, রিচম্যান ইত্যাদি দোকানে। জুতা পাবেন চৌরঙ্গী, এলিফ্যান্ট রোড, আড়ংয়ে। এসব দোকানে উত্তরীয়ও পাবেন।
এ ছাড়া আপনার হাতে যদি সময় থাকে, তবে ডিজাইন দেখিয়ে ফরমায়েশ দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন দর্জিকে দিয়ে। পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি সেলাই করতে পারেন গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন দোকান থেকে। স্যুট সেলাই করতে পারেন ফিট এলিগেন্সের মতো বিভিন্ন দোকান থেকে।
দাম যেমন পড়বে: পাঞ্জাবির দাম পড়বে হালকা কাজ হলে দুই হাজার ৫০০ ও ভারী কাজ হলে তিন হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। শেরওয়ানির দাম পড়বে ৭০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্যুট পাবেন ১৫ হাজার টাকায়। নাগরা পাবেন এক থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। সু পাবেন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে।
বরের রূপচর্চা: আজকাল ছেলেদের জন্য অনেক সেলুন আছে, সেখানে অনায়াসেই করা যেতে পারে বিয়ের আগে একটা গ্রুমিং সেশন।
ছেলেরা যেহেতু ত্বক সম্পর্কে থাকে একটু উদাসীন এবং বাইরেও বের হন বেশি। তাই তাদের বিয়ের আগে ত্বকটা অবশ্যই পরিষ্কার রাখা উচিত। মুখের কালো ছোপ, ব্ল্যাক হেডস বা ব্রণ দূর করতে বিয়ের দুই-তিন মাস আগ থেকেই ফেসিয়াল করা ভালো। তাতে ত্বক সজীব থাকবে। এ ছাড়া ম্যানিকিউর-প্যাডিকিউর করে হাত-পা অবশ্যই পরিষ্কার রাখা উচিত।
চুলের ক্ষেত্রেও নিতে পারেন বিভিন্ন হেয়ার ট্রিটমেন্ট; যা বিয়ের দিন প্রাণবন্ত ও সজীব দেখাবে।
অনুষ্ঠান ভেদে নিতে পারেন বিভিন্ন চুলের স্টাইল। জেল দিয়ে ব্যাক ব্র্যাশ, স্পাইক বা যেকোনো কাট দিয়ে চুল সেট করে নিতে পারেন। চাইলে বিভিন্ন কালারও ব্যবহার করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের দিন হালকা পাফ করতে পারেন মুখের দাগ বা তৈলাক্ততা দূর করতে।
বরের বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী: বরের পোশাক আর জুতার সঙ্গে পারফিউম, শেভিং ক্রিম বা আফটার শেভ, পাউডার, লোশন, শেভিং কিট, সাবান, বডি স্প্রে, পেস্ট, ব্রাশসহ আরও অনেক কিছু দিতে পারেন আপনার সাধ ও সাধ্যমতো। বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকানে পাবেন এগুলো।
সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং ইচ্ছা থাকলেই সুন্দর ও পরিপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব। যা-ই নির্বাচন করুন না কেন, তা আপনার সাধ্য, রুচি ও মানসিকতার মধ্যে রেখে করুন। বিয়ের এক মাস আগে আপনার করণীয় কাজের তালিকা তৈরি করে নিন।
পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ত্বক ও চুলের দিকেও নজর দিন। বিয়ে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আনন্দ, সৌন্দর্য ও রুচিশীলতার মধ্য দিয়ে জীবনে স্মরণীয় করে নিন আপনার মুহূর্তগুলোকে।

বিজনেস ক্যাজুয়াল....

business-casual-dress
বিজনেস ক্যাজুয়াল অফিসে খুব কেতাদুরস্ত হয়ে থাকাটা এখন অনেকেই তেমন পছন্দ করেন না। অফিসের পোশাকটা হওয়া চাই আরামদায়ক। আবার ঘরে পরার পাতলা টি-শার্ট, ঢিলে প্যান্ট পরেও তো অফিসে আসা যায় না, তা যতই আরামদায়ক হোক না কেন। এর পাশাপাশি ফ্যাশনের কথাও আছে। আনুষ্ঠানিক পোশাকের ধরনে তাই বেশ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সব মিলে বিজনেস ক্যাজুয়াল পোশাকের চল এখন বেশ।
এ নিয়ে কথা হয় মডেল আদিল হোসেন নোবেলের সঙ্গে। তিনি মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারটেলের করপোরেট ও এসএমই সেলস বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর মতে, ব্যাংক বা টেলিকম প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে এক দিন অনেকে অফিসে ক্যাজুয়াল পোশাক পরেন। তবে অবশ্যই তাতে ন্যূনতম মান থাকে। ক্যাজুয়াল পোশাক পরলেও পোশাকে আনুষ্ঠানিকতার একটা ছাপ থাকে।
পোশাক যা-ই হোক, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া চাই। টি-শার্ট, জিনস পরলেও দেখতে যেন মার্জিত লাগে। তাই বলে গোল গলা গেঞ্জি বা স্যান্ডেল পরে অফিস করা যাবে না। অর্থাৎ বাসার পোশাকে অফিস করা যায় না। স্যুট না পরলেও ফুলহাতা শার্ট পরা উচিত। সঙ্গে খাকি বা গাঢ় রঙের প্যান্ট। জুতোটা অবশ্যই পলিশ করা হতে হবে।
আদিল হোসেন আরও বলেন, যা-ই পরা হোক না কেন, পোশাক হবে ফিটিং। শার্টের রং গাঢ় বা সলিড হবে। লিনেন বা গ্যাবারডিন কাপড়ের প্যান্ট পরা যেতে পারে। রং বাদামি, ছাই বা খাকি হতে পারে। ব্লেজার বা জ্যাকেট অথবা দুটোর মাঝামাঝি কিছু একটা পরা যায়। এগুলো দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আরামদায়ক, মানানসই, আবার কর্মক্ষেত্রেও স্বচ্ছন্দ। সবচেয়ে বড় কথা, যা-ই পরা হোক না কেন, তাতে করপোরেট একটা লুক থাকবে। হালে এটাকে বলা হচ্ছে বিজনেস ক্যাজুয়াল পোশাক।
নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের সাপ্লাই চেইন পরিচালক নকিব খান জানালেন, প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী বা অনুষ্ঠানে গেলে অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী পোশাক পরতে হয়। ব্যাংকে কর্মরত হলে স্যুট-টাই (কালো স্যুটের সঙ্গে একই রঙের প্যান্ট) পরা যায়। ড্রেসকোড বিজনেস ক্যাজুয়াল বললে টাই-স্যুট না পরলেও চলে, চাইলে ভিন্ন রঙের স্যুট-প্যান্ট পরা যায়। জ্যাকেট, জিনস, ফতুয়াও পরা যায়। গাঢ় রঙের পোশাকই রাতের অনুষ্ঠানে মানানসই।
ফ্যাশন হাউস লুবনান ও রিচম্যানের পরিচালক ও ডিজাইনার নাইমুল হক খান বলেন, ‘অনুষ্ঠান উপলক্ষে টাই পরা যেতে পারে, আবার না পরলেও ক্ষতি নেই। এটা যার যার রুচির ব্যাপার। শার্টটা ফুলহাতা হওয়াই ভালো। গরমে দিনের বেলায় হাফহাতা সাদা অথবা হালকা রঙের পোলো শার্টও পরা যেতে পারে। মোজা গাঢ় রঙের হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে, বসলে পায়ের খালি অংশ যেন দেখা না যায়। চামড়ার জুতা পরা যায়, তবে স্যান্ডেল নয়। অ্যাথলেটিক বা হাইকিং বুটও নয়।’
পেশাজীবীদের কাছে বিজনেস ক্যাজুয়াল পোশাক জনপ্রিয়। ক্যাজুয়াল লুক হিসেবেও জিনসের প্যান্টের সঙ্গে অনেকে স্যুট-টাই পরতে পছন্দ করেন। জিনসের প্যান্ট, পোলো শার্ট কিংবা ড্রেস শার্ট ব্যবস্থাপক বা পেশাজীবীদের কাছে মানসম্মত পোশাক হিসেবে বিবেচিত।
নেকটাই, কাফলিং বিজনেস ক্যাজুয়াল ধাঁচের পোশাকে পরা হয় না। আনুষ্ঠানিক ভাব আর আরাম দুটোই পাওয়া যায় বিজনেস ক্যাজুয়াল ধাঁচের পোশাকে। তবে এটা কিন্তু পার্টি বা পিকনিকের পোশাক নয়। অফিসের কেতাদুরস্ত ভাবটা অনেকেই তেমন পছন্দ করে না। আবার খুব সাদামাটাভাবেও অফিস করা যায় না। তাদের চাহিদা আর রুচির সঙ্গে মানানসই হতে পারে এ ধরনের পোশাক। আরামদায়ক প্যান্ট-শার্টের সঙ্গে চামড়ার তৈরি জুতা ও বেল্ট পরতে হবে।
ওটুর প্রধান নির্বাহী আসিফ ইবনে মান্নান জানালেন, এই ধাঁচের পোশাক হিসেবে ক্যাজুয়াল শার্টই পরা হয়। এর সঙ্গে ব্লেজারটা বেশ ফ্যাশনেবল হতে পারে। একটু ভিন্নতা থাকতে পারে ব্লেজারের নকশায়। ন্যারো ফিটিং প্যান্ট পরতে পারেন। জিনসও বেশ মানাবে। তবে জুতা ও বেল্টে আনুষ্ঠানিক ভাবটা থাকা চাই।
যে ধরনের পোশাকই পরেন না কেন, শরীরের উচ্চতা, গঠন ও মুখের গড়ন বিবেচনায় রাখুন। কাটিং ও ফিটিং ভালো হওয়া জরুরি।

শার্ট চাই স্মার্ট....

shirt
ঈদ এবার গরমের সময়েই পড়ল। এখন তাই চাই হালকা পোশাক। ঈদে পাঞ্জাবি তো পরা হবেই। অনেকে আবার সারা বছর পরার জন্য এ সময় শার্ট কিনে রাখেন।
ছেলেদের ফরমাল শার্টের পছন্দের দেশীয় ব্র্যান্ড হচ্ছে ক্যাটস আই ও মনসুন রেইন। এবারের ক্যাটস আইয়ের ঈদ সংগ্রহে রয়েছে হেভি ওয়াশড সুতি শার্ট, যা বেশ আরামদায়ক। এর বৈচিত্র্যময় বোতাম ও প্রিন্ট শার্টে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। এতে রয়েছে চেক, স্ট্রাইপ্ড ও এক রঙের শার্ট। যাঁরা একটু হালকা রং পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ক্যাটস আইয়ের রয়েছে ভিন্ন সংগ্রহ। এখানে এসব শার্টের দাম পড়বে ৯৫০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা। ছেলেদের জন্য স্লিম ফিটফাট শার্টের দাম শুরু ৮০০ টাকা থেকে। আরামদায়ক শার্টের জন্য আর্টিস্টি কালেকশন সব সময় ছেলেদের পছন্দের ব্র্যান্ড। এবার দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের কাপড়ের শার্ট রয়েছে আর্টিস্টি কালেকশনে। আর্টিস্টি কালেকশনের শোরুমে গেলেই পাওয়া যাবে আর্টিস্টি কালেকশন, আর্টিস্টি গোল্ড ও আর্টিস্টি ইতালিয়ান বিভাগের শার্ট। প্রতিটি বিভাগের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য ও রঙের বৈচিত্র্য। প্রায় তিন শর মতো রঙের বৈচিত্র্য রয়েছে শার্টগুলোতে। এসব শার্টের দাম পড়বে এক হাজার ৫৫০ থেকে তিন হাজার ২৫০ টাকা।
ওয়েস্টেকসে পাওয়া যাবে হালকা জমিনে গাঢ় রঙের বিভিন্ন স্ট্রাইপ শার্ট। আর সেই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন রঙের চেক শার্ট। এসব চেকের মধ্যে রয়েছে জমিনে হালকা রং। বিভিন্ন ডিজাইনের এসব শার্টের দাম পড়বে ৯৫০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা। ভিন্ন রকম ডিজাইনের কারণে তরুণদের মধ্যে মেনজ ক্লাব এখন বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন ডিজাইনের ক্যাজুয়াল, অফিশিয়াল কিংবা শর্ট শার্ট রয়েছে ৯৫০ টাকার মধ্যে। টেক্সমার্টে ক্যাজুয়াল ও ফরমাল ধরনের শার্ট রয়েছে। আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি শার্টগুলোতে যোগ করা হয়েছে নতুন নতুন ডিটেইলিং।
গরমে কৃত্রিম (সিনথেটিক) কিংবা পলিয়েস্টার মেশানো কাপড় বাদ দিয়ে পরা উচিত। গরমের সময় আরাম ও স্বস্তিদায়ক হচ্ছে সুতি, লিনেন, ফ্ল্যাক্স মিক্সড বা সিভিসি ধরনের কাপড়। এসব কাপড় ও রঙের শার্ট পাওয়া যাবে ইনফিনিটি, প্লাস পয়েন্ট, ট্রেন্ডজ, মেনজ ক্লাব, সিলসহ বিভিন্ন শোরুমে। ফুল হাতা ও হাফ হাতা শার্টের দাম পড়বে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। নানা ধরনের স্ট্রাইপ, চেক ও সেমিচায়নিজ ক্যাজুয়াল শার্টের বিশাল সংগ্রহ পাওয়া যাবে এই শোরুমগুলোতে।
বেশ কিছু একরঙা শার্টের সঙ্গে কিছু প্রিন্টের শার্টও পাওয়া যাবে এখানে। পাশাপাশি থাকবে ভিন্ন ধরনের কিছু স্ট্রাইপ শার্ট। এসব শার্টের দাম শুরু হয়েছে এক হাজার ১৫০ টাকা থেকে।
লা রিভ, ট্রেন্ডজ, অরভিস, ইয়েলোতে রয়েছে সাদা, লেবু, গোলাপি, হালকা নীল, হালকা সবুজ, চাপা সাদা, ঘিয়াসহ বিভিন্ন রঙের শার্ট। অফিশিয়াল এক্সিকিউটিভ ও ফ্যাশনেবল শার্টে রয়েছে কাট আর প্যাটার্নের বৈচিত্র্য। শার্ট যেখান থেকেই কিনুন, কিছু জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত, তা হলো শার্ট যেন শরীরের সঙ্গে ভালোভাবে ফিট হয়। শার্টে চেহারার আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, তাই শার্ট যেন বেশি আঁটসাঁট বা ঢিলেঢালা না হয়, আর শার্টে কাঁধের ফিটিং যেন ঠিক থাকে। স্ট্রাইপ বা চেক—যে ধরনের শার্টই পছন্দ করুন, তা যেন খুব বেশি হিজিবিজি না হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে হালকা লাল কিংবা পেঁয়াজ রং অথবা উজ্জ্বল হলুদ, গাঢ় নীল রঙের শার্ট বা একরঙা, স্ট্রাইপ বা চেক—যেকোনো রকমের শার্টই পাওয়া যাবে মুনলাইট, রেক্স, আর্টিসান, একস্ট্যাসিসহ বিভিন্ন শোরুমে।
অনেকে আবার ক্যাজুয়াল শার্টও পরতে চান। সব সময় পরার জন্য দেশি সুতি কাপড়ের ক্যাজুয়াল শার্টই সেরা। গরমে প্রিন্টেড বা চেক কাপড়ের শার্ট আরামদায়ক। আর ধরনটা হবে হাওয়াই। এ শার্টের নিচের দুই পাশে অল্প খোলা থাকে এবং হাফ হাতার হয়। একটু ঢিলেঢালা শার্ট পরলে ঘামে কাপড় নষ্ট হবে না। হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করাই ভালো, যেমন—সাদা, হালকা বেগুনি। এ ধরনের শার্ট পাওয়া যাবে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো যেমন আড়ং, রঙ, কে ক্র্যাফট, অন্যমেলায়।

ছেলেদের চুল যখন যেমন....


বর্তমান সময়ের তরুণদের চুলের নানা ছাট-কাট দেখা যায়। আবার হেয়ার স্টাইল কেমন হবে তা নিয়েও ভাবনার যেন শেষ নেই।শুধু সময়ের সঙ্গে তাল মেলালেই চলবে না; মুখের আকার, চুলের ধরন বুঝে বেছে নিতে হবে মানানসই হেয়ার স্টাইল। হেয়ারোবিক্সের হেড অব অপারেশনস তানজিমা শারমীন জানালেন এ সময়ে ছেলেদের চুলের স্টাইলের খুঁটিনাটি।
মেসির মতো
সামনেই বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার ফুটবলার মেসির মতো করে চুলের স্টাইল করতে চান অনেকেই। একটু লম্বা, এলোমেলো—এ ধরনের চুলের স্টাইলের নামই হয়ে গেছে ‘মেসি লুক।’ কয়েক রকম চুলের স্টাইলে মেসি লুক ভালো লাগে, যেমন—মোহক, লেয়ারড, চপি ইত্যাদি। চুলে রং করিয়ে মেসি লুক আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়।
ঢেউ খেলানো
চুলে একটু ঢেউ খেলানো যেতে পারে। এটি করাও বেশ সহজ। ওয়েভি হেয়ার স্টাইলে চুল অনেক ঘন দেখায়।
ক্ল্যাসিক ট্যাপার
ক্ল্যাসিক ট্যাপার হেয়ার স্টাইল নিতে হলে থাকতে হবে মাঝারি লম্বা চুল। এই স্টাইল করতে মাথার পেছনে ও কানের ওপরের চুল খাটো করে কাটা হয়। কিন্তু কপালের চুল রাখা হয় লম্বা, যাতে চুলগুলো কপালের ওপর ছড়িয়ে রাখা যায় অথবা ব্যাক ব্রাশ করা যায়।
ইমো
এর জন্য মাঝারি লম্বা চুল থাকা প্রয়োজন। ইমো স্টাইল করতে অনেকটা এলেমেলোভাবে চুল কাটা হয়। কিন্তু সামনের চুল বড় রাখা হয়। আর মাথার পেছনের চুল স্পাইক স্টাইলে ছোট রাখা হয়। সামনে এবং কানের পাশের বড় চুলগুলো মুখমণ্ডলের ওপর প্রায় ছেয়ে থাকে। এটিকে ‘ইমো সুইপ’ বলে। অল্প বয়সীদের মধ্যে এমন চুল বেশ জনপ্রিয়।
ছোট চুলের স্টাইল
একদমই ছোট চুল রাখতে চান যাঁরা তাদের জন্য আছে ক্রু কাট, ক্ল্যাসিক কাট, স্পাইক হেয়ার স্টাইল ইত্যাদি। ক্রু কাটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মাথার পেছনের ও পাশের চুল খুব ছোট করে ছাঁটা হয়, কিন্তু ওপরের চুলগুলো ক্রমান্বয়ে কিছুটা বড় ও খাড়া করে রাখা হয়। ক্রু-কাট পরিচর্যা করা খুব সহজ। সাধারণত ক্রু-কাট দুই রকম হয়ে থাকে—এক্সট্রা শর্ট এবং হাই অ্যান্ড টাইট। ক্ল্যাসিক কাটে মাথার একপাশে সিঁথি করে চুল আঁচড়ানো হয়। চুলের দৈর্ঘ্য কতখানি হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তিত্বের ওপর। আনুষ্ঠানিক পোশাকের সঙ্গে এই চুলের স্টাইল বেশ মানানসই। স্পাইক হেয়ার স্টাইল অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মধ্যে জনপ্রিয়। হেয়ার জেল ব্যবহার করে সামনের দিকের চুলগুলো একটু খাড়া করে রাখা হয়।
লম্বা চুলের নানা স্টাইল
ঘন লম্বা চুলের হেয়ার স্টাইল: মাথার চুল লম্বা থাকলে তা বিভিন্নভাবে স্টাইল করে রাখা যায়। দুই কাঁধের ওপর ছড়িয়ে রাখা যায়। চুলের ধরন সোজা অথবা কোঁকড়া যা-ই হোক, পনিটেল করে রাখলেও সুন্দর লাগে। আবার কিছুটা চুল খোলা রেখে অল্প চুল নিয়ে এলোমেলো ঝুঁটিও করা যায়।
পাতলা চুল যাঁদের
মাথার চুল ঘন না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। একটু ভেবেচিন্তে চুলের স্টাইলটি নিতে হবে, আর তা পরিচর্যা করতে হবে। পাতলা চুল যাঁদের, অবশ্যই তাঁরা ছোট চুলের হেয়ার স্টাইল নেবেন।
কোন মুখে কেমন চুল
গোলাকার
এমন কোনো হেয়ার স্টাইল নির্বাচন করা উচিত নয়, যাতে পুরো মাথাটি আরও গোলাকার দেখায়। আর চুল কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন কানের দুই পাশের অংশ একটু চাপা দেখায়। মাথার ওপরের ও সামনের অংশের চুল অপেক্ষাকৃত বড় ও খাড়া রাখতে হবে।
ডিম্বাকৃতি
বেশির ভাগ হেয়ার স্টাইলই ডিম্বাকৃতি মুখমণ্ডলের সঙ্গে মানিয়ে যায়।
হীরক আকৃতি
এটিকে ডায়মন্ড শেপ বলে। এই মুখের অধিকারীদের গালের হাড় বেশ চওড়া হয়। তাই হেয়ার স্টাইল নেওয়ার সময় কপাল ও থুতনির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন চুলের স্টাইল নিতে হবে, যাতে গালের হাড় ছোট দেখায়। কপালের ওপরের চুলগুলো ব্যাংগস করে কেটে রাখা যেতে পারে।
আয়তাকার
আয়তাকার বা ডিম্বাকার মুখ সাধারণত লম্বাটে ও বড় দেখায়। তাই এমন হেয়ার স্টাইল নির্বাচন করা উচিত, যেন মুখটি যত দূর সম্ভব ছোট দেখানো যায়। লেয়ার হেয়ার কাটিং আয়তাকার মুখের জন্য সবচেয়ে ভালো নির্বাচন।
ত্রিভুজাকার
মুখমণ্ডলের এই আকৃতিকে হার্ট শেপও বলা যায়। সরু চিবুক আর চওড়া কপাল হলে তাকে ত্রিভুজাকার মুখ বলা হয়। মাথার পেছনের চুল একটু বড় ও ফুলানো থাকলে ভালো হয়। এই রকম মুখের আকৃতিতে গালভরা খোঁচা খোঁচা দাড়ি রাখলে মন্দ হয় না।
তানজিমা শারমীন বলেন, হেয়ার স্টাইল নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো কোনো রূপ-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।

সিল্ক আর ছাপা শাড়িতে ....




silk
উৎসবের আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে সিল্কের শাড়ি অনেকেরই পছন্দ, আর আরামদায়ক হিসেবে ছাপা শাড়িরও জুড়ি কম। জেনে নিন সিল্ক ও ছাপা শাড়ির খোঁজ।
দোয়েল সিল্ক
সিল্কের ভারী বুননে হ্যান্ড পেইন্ট, কাটওয়ার্ক, কারচুপি আর ব্লক মিলে ১০০টি নতুন ডিজাইন করেছে এবার দোয়েল সিল্ক। রয়েছে সিল্কের গজ কাপড়ও। সিল্কের শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ৯০০ থেকে ১০ হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। আর কাপড়ের দাম গজপ্রতি সিল্ক ৪৮০-৫৫০, বলাকা সিল্ক ৩৪০-৩৫০ ও মসলিন ২২০-২৫০ টাকায়।
উষা সিল্ক
মসলিন, বলাকা সিল্ক, সফট সিল্ক, অ্যান্ডি মসলিন, খাদি মসলিন ও জয়শ্রী মসলিনের শাড়িতে করা হয়েছে কারচুপি, এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক আর স্ক্রিন প্রিন্ট। পাশাপাশি রয়েছে গজ কাপড়ও।
মসলিন হ্যান্ড পেইন্ট শাড়ি পাবেন ৮০০-২৫০০ টাকা, বলাকা সিল্ক ২৫০০-৪৫০০, অ্যান্ডি সিল্ক ২৩০০-৫০০০, অ্যান্ডি মসলিন ২৩০০-৫৫০০, খাদি মসলিন ১২০০-১৮০০ ও মসলিন এমব্রয়ডারি অ্যাপ্লিক ৫৫০০-৬৪০০ টাকায়।
অ্যান্ডি সিল্কের প্রতি গজ কাপড় ৩২০, মসলিন ২২০, কাতান ৪২০-৫০০, দুপিয়ান ৫০০, বলাকা সিল্ক ৩৫০ ও জয়শ্রী সিল্ক ১৮০ টাকায় পাওয়া যাবে।
সপুরা সিল্ক
ফুল, লতা-পাতা আর বিভিন্ন কারুকাজে ফুটে উঠেছে নকশাদার শাড়িগুলো। এবার মসলিন, অ্যান্ডি, বলাকা সিল্ক, সফট সিল্ক, তসর সিল্ক—সব মিলিয়ে তারা ৫০-এর অধিক নতুন ডিজাইন করেছে। সপুরার মসলিনের শাড়িগুলো পাবেন ৩৭৫০-৬১০০, অ্যান্ডি হ্যান্ড প্রিন্ট ২৩৫০-২৮০০, বলাকা ব্লক প্রিন্ট ২৮০০, সফট সিল্ক ৯০০-২১০০, তসর সিল্ক ৪৫০০ ও অ্যান্ডি ব্লক ২০০০ টাকায়। বলাকা সিল্ক গজপ্রতি ৩৭৫, ক্রেপ বলাকা ৪৭০, দুপিয়ান ৪৭৫, মটকা সিল্ক ৩৪০ ও সিল্ক প্রিন্ট ৩৭৫ টাকায় পাওয়া যাবে।
লক্ষ করুন: সিল্ক শাড়ি কিনার সময় খেয়াল রাখুন এর ওজনের দিকে। কারণ কোমলতা দিয়ে সিল্কের ভালো-মন্দ নির্ভর করে না।
আরামদায়ক ছাপা শাড়ি
ঈদের দিন আরামের জন্য ঘরে পরতে পারেন ছাপা সুতি শাড়ি। ঈদকে নিয়ে বিভিন্ন টেক্সটাইলের রয়েছে ছাপা শাড়ির বিশাল সংগ্রহ।
প্রাইড টেক্সটাইল
প্রাইড লিমিটেডের ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, এবার প্রাইডের বেশির ভাগ শাড়ি করা হয়েছে তাঁতের ওপর। তাঁতের শাড়িতে ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি ও আফসান প্রিন্টে করা হয়েছে এবারের শাড়িগুলো। রঙের মধ্যে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে উজ্জ্বল রংগুলোকে। প্রাইডের ছাপা শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ১২৫০-৫০০০ টাকায়। সাধারণ সুতি ছাপা শাড়ি পাবেন ৩৫০-৪৫০ টাকায়।
পারফেক্ট টেক্সটাইল
ঈদ আয়োজনে পারফেক্ট টেক্সটাইল যোগ করেছে পাঁচ ধরনের নতুন শাড়ি। সাধারণ প্রিন্ট শাড়ি, কোটা প্রিন্ট শাড়ি, কোটা নকশি শাড়িসহ রয়েছে নানা ডিজাইন। পারফেক্ট টেক্সটাইল ধানমন্ডি শাখার ইনচার্জ জেসমিন আকতার বলেন, এবার ঈদ উপলক্ষে ৬০টি নতুন ডিজাইনের শাড়ি এনেছেন তাঁরা। প্রিন্টের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে জামদানি প্রিন্ট, তাঁত প্রিন্ট এবং এর সঙ্গে করা হয়েছে কারচুপির কাজ।
বি প্লাস শাড়ি
টেক্সটাইলের সুতি ছাপা শাড়ির খোঁজে যেতে পারেন বি প্লাসের শোরুমে। ফুল, পাতা, কলকা, তাঁতের পাড়, বুটির ছাপায় সুতি শাড়িগুলো পরতে বেশ আরামদায়ক হবে। বি প্লাসের ছাপা সুতি শাড়িগুলো পাবেন ৩৫০-৬৫০ টাকায়।
জনি টেক্সটাইল
আরামদায়ক সুতি কাপড়ে বৈচিত্র্যময় ছাপা শাড়ি এনেছে জনি টেক্সটাইল। শাড়ির পাড় ও আচলে ভিন্নধর্মী নকশা করা হয়েছে।

গ্রীষ্মের পোশাকে বৈচিত্র্য



bangla-fashionফ্যাশন শোর বিভিন্ন পোশাকে মডেলরা ঢাকা ফ্যাশন উইক কয়েক বছর ধরে ফ্যাশন শোর আয়োজন করে আসছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘ঢাকা ফ্যাশন উইক-২০১০: সামার কালেকশন’ শীর্ষক ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়েছিল।
বসনে কখনো ঐতিহ্যের বাহারি ভাব, আবার কখনো দেশি জামদানির স্নিগ্ধতা—পাশ্চাত্যের আধুনিকতার সঙ্গে প্রাচ্যের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের এক শৈল্পিক সমন্বয় যেন। নকশায় আদিবাসীদের কাঠ, পুঁতি ও নকশিকাঁথার কাজ। কারুশিল্প থেকে শুরু করে নানামাত্রিক হাতের কাজ, মেশিন এমব্রয়ডারি, ছাপা, আঁকা, পুঁতির অলংকার ছিল। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ফ্যাশনের যেন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার নতুন এক পসরা। ‘মম চিত্তে নীতে নৃত্যে তা তা থৈ থৈ…’ বা কাদের কুলের বউগো তুমি…’সহ অন্যান্য গানের সঙ্গে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টপস, স্কার্ট, শার্ট পরে র‌্যাম্পে হেঁটে বেড়ান টুম্পা, মৌ, আরিয়ানা, মিলা, লিনা খান, চিণ্ময়ী, আঁখি, মৌনতা, রুমা, সানজানাসহ ৪০ জন মডেল। ফ্যাশন হাউস মানশা, ফরচুনা, রোকসানা সালেম, মাহমুদুল হাসান, শিরিন করিম, উত্তম ঘোষ ও যাত্রার তৈরি পোশাক প্রদর্শন করা হয় এতে।
এসব পোশাকের অভিনব নকশার সঙ্গে রঙের বৈচিত্র্য ছিল চোখে পড়ার মতো। মানশার পরিচালক ও ডিজাইনার ফারহানা তাহেরের পোশাকে ছিল আভিজাত্যের সঙ্গে রঙের মার্জিত ছোঁয়া। মসলিন, শিফনের অনেকগুলো শাড়ি উপস্থাপন করে। ফরচুনার তৈরি জিনস, পলো শার্ট, শাট, স্কাটের পাশাপাশি চামড়ার তৈরি ব্যাগ, ওয়ালেট, জুতাও দর্শকদের সামনে উপস্থিত করা হয়। রোখসানা সালামের করা পোশাকগুলো ছিল বিশেষ ধরনের। হিজাব, বোরখার নকশায় ছিল মার্জিত ও কোমল রঙের প্রভাব। প্রকৃতির ধারণায় শিরিন করিমের ‘স্বয়ংবরা’ শিরোনামে তৈরি করেছেন গাছপালা, ফুল, প্রজাপতি, ঝোপঝাড়সহ নানা জ্যামিতিক উপস্থাপনা। মাহমুদুল হাসানের ছিল মিলেনিয়াম কালেকশন। সুতা ও নকশায় উঠে এসেছে পরিবেশবান্ধব সচেতনতা। ফ্যাশন শোর ফাঁকে ফাঁকে ছিল সংগীতানুষ্ঠান। ঢোলের তালে তালে আদিবাসীদের পোশাক পরে, মডেলরা র‌্যাম্পে হেঁটে ফ্যাশন হাউস ‘যাত্রার’ উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেন।
পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ডিজাইনার উত্তম ঘোষ কিছু স্বতন্ত্র ডিজাইন তৈরি করেন পাটের উপকরণ ব্যবহার করে। পাটের সুতায় বোনা কাপড়ে স্যুট, ওয়েস্টার্ন আউটফিট, মসলিন ও জামদানি শাড়ি ছিল এবারের ঢাকা ফ্যাশন উইকের বিশেষ আকর্ষণ।
ঢাকা ফ্যাশন উইকের প্রেসিডেন্ট কৌশিকি নাসের তুপা বলেন, ‘আমাদের তাঁতি, ডিজাইনাররা খুবই সৃষ্টিশীল ও পরিশ্রমী। ডিজাইনারদের পরিচিত করতে, সারা বিশ্বে দেশি পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় কাপড় সবার কাছে পৌঁছে দিতে এই শোর উদ্দেশ্য।’
এবার ঢাকা ফ্যাশন উইকের সহ-আয়োজক ছিল একুশে টেলিভিশন, ভোরের কাগজ, অটবি, মাস্টহেড পিআরএ, চারবেলা চারদিকে, বেঙ্গল মিউজিক।

বৃষ্টিদিনের পোশাক.....



rainey-season-fashion
বাইরে একটানা ঝরছে বর্ষার মুষলধারা। কখন থামবে কিংবা আদৌ থামবে কিনা তাও জানা নেই। অথচ এই বৃষ্টি মাথায় করে এ বেলা বাইরে না বেরুলেই নয়। ভাবছেন বরষতি কিংবা ছাতি মাথায় এক দৌড়ে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু মুষলধারার বৃষ্টি যখন এই বর্ষাতি কিংবা ছাতির বাধ মানবে না তখন বরষাতি জল গায়ে মাখতে হবে। আবার আকাশে সূর্যের হাসি দেখে যে মানুষটি দিব্যি ছাতির তোয়াক্কা না করেই বেরিয়েছিলেন ঘরের বাইরে, আচমকা এক পশলা বৃষ্টি বেশ করে ভিজিয়ে দিতে পারে তাকেও। আর হঠাৎ করে এই বৃষ্টির কবলে পড়ে ঠাণ্ডা কিংবা জ্বর বাধানোর পাশাপাশি গোলমাল বেধে যেতে পারে পরিধেয়তেও। বিশেষ করে সুতি কাপড় কিংবা সাদা কাপড়ে বৃষ্টির পানি আর কাদা মাখামাখি হয়ে বিপত্তির মুখোমুখি পড়তে হয় অনেককেই। তবে তাই বলে এমনতর বৃষ্টি দিনে আপনি যে রাতারাতি সব স্টাইলিশ পোশাক জলাঞ্জলি দিয়ে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করবেন তা তো নয়। বরং বৃষ্টিকে মানিয়ে এবং সবাইকে জানিয়েই এই বৃষ্টি দিনে চালু রাখতে হবে আপনার ফ্যাশন ভাবনাটুকু।ণ্ডতাই নিয়ে লিখেছেন রাশেদুল হাসান শুভ
বৃষ্টি দিনে কেমন পোশাক পড়বেন তা জানার আগে বৃষ্টির দিনে কেমন পোশাক পড়বেন না সেটা জানিয়ে দেয়া উচিত। আর এক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে সুতি কাপড়ের প্রসঙ্গ। সাধারণত সুতি কাপড়ের পোশাকের বুনটটাই এমন থাকে যে এ ধরনের কাপড় বৃষ্টিতে ভিজলে তা শরীরের সাথে সেঁটে গিয়ে এক রকমের অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করে। আবার একটু মোটা তন্তু বা মোটা বুনটের সুতির কাপড় শুকাতে দেরি হয় বলে তা শরীরের সাথে পানির সংস্পর্শটাও রাখে বহুগুণ। আর এ কারণে ঠাণ্ডা লাগার ভয়টাও থাকে বেশি। অন্যদিকে সুতি কাপড়ে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে গেলে এতে এক ধরনের গুমোট গন্ধ কিংবা ছোট ছোট দাগ হতে পারে, যা বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে আপনার প্রিয় পোশাকেরও।
সুতি পোশাকের মতো বৃষ্টির এই সময়টায় মোটা বুনটের কাপড় যেমন আদ্দি বা খদ্দরের পোশাক পড়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। সেই সাথে বৃষ্টিতে যেসব কাপড় ভিজে গেলে আপনাকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিতে পারে সে ধরনের কাপড়ও এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যদিকে বৃষ্টিতে কোনো কারণে আপনার প্রিয় পোশাকটি ভিজে গেলে বাড়ি ফিরে যতো দ্রুত সম্ভব তা শুকাতে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর কাদাপানিতে ভিজে গেলে কিংবা দাগ বসে যাওয়ার আশংকা থাকলে তা ধুয়ে দেয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে তাড়াতাড়িই।
বর্ষায় পড়া বারণ এমন পোশাকের পর এবার আসা যাক বৃষ্টিদিনের আরামদায়ক পোশাক প্রসঙ্গে। সাধারণত বৃষ্টির সময় বা মেঘলা মেঘলা আবহাওয়ায় এমন পোশাকই নির্বাচন করা উচিত, যা বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত শুকিয়ে যায়। আবার হুট করে রোদ উঠলেও অস্বস্তি তৈরি করে না। এক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃত্রিম তন্তুজাত কাপড়ই আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে। তবে কৃত্রিম তন্তুজাত কাপড়ে যাদের এলার্জি আছে কিংবা যারা এ ধরনের কাপড় পড়ে স্বস্তি পান না তারা জর্জেট, সিল্ক কিংবা দেশি ভয়েল ধরনের কাপড়ের পোশাক পড়তে পারেন। এছাড়া আমাদের দেশের রাজশাহী সিল্ক বা হাফসিল্ক, সুতি জর্জেট বা বেক্সি জর্জেটেরু তৈরি পোশাকগুলোও বর্ষার দিনে আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা দেবে।
কাপড়ের ধরনের পর আসা যাক কাপড়ের ছাট আর রঙের বিষয়ে। সাধারণত বর্ষার এই সময়টা নীল, কমলা বা উজ্জ্বল যে কোনো রঙের পোশাকই বেশি মানায়। বিশেষ করে যেসব দিনে আকাশ মেঘলা থাকে সেসব দিনে খানিকটা উজ্জ্বল রঙের পোশাক পড়াই ভালো। একই ভাবে মেঘের কোল ঘেঁষে বেরিয়ে আসা হঠাৎ রোদেও ভালো লাগে যে কোনো উজ্জ্বল পোশাক। তবে পোশাকের এই উজ্জ্বল রঙ যেন চোখে লাগার মতো দৃষ্টিকটু না হয় সেটুকু বুঝে নিতে হবে আপনার রুচিবোধ থেকেই। তাছাড়া যেসব রঙের কাপড় বৃষ্টির পানিতে ভিজে এক ধরনের স্বচ্ছতা তৈরি করে আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে পারে, এমন রঙের বা বুনটের পোশাক এড়িয়ে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বৃষ্টির সময় রাস্তায় বা চলতে পথে কাদাপানির ঝক্কিতে যেন আপনার মূল্যবান পোশাকের বারোটা বেজে না যায় সেজন্য খুব বেশি নিচু বা পায়ের কাছে পড়ে এমন প্যান্ট, ট্রাউজার বা সালোয়ার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া এ সময়ের সালোয়ার কিংবা কামিজ খানিকটা ঢিলেঢালা হলে তা বৃষ্টিতে ভেজার পর যেমন দ্রুত শুকিয়ে যায় আবার হঠাৎ রোদ উঠলেও অস্বস্তি তৈরি করে না। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বাইরে বেরুতে হলে স্কিনটাইট জিন্স বা চুড়িদার সালোয়ারের মতো পোশাক এড়িয়ে চলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বর্ষায় পোশাকের ধরন, রঙ আর ছাটের কথা গেল। কিন্তু এতকিছুর পর যদি এই বর্ষায় আপনার মূল্যবান কাপড়ের যত্নের কথা বলা না হয় তাহলে আলোচনাটা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। মূলত বর্ষার সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে কাপড় সহজে শুকাতে চায় না এবং কাপড় নষ্ট হওয়ার ভয়ও বেশি থাকে। এজন্য কাপড় ভালোভাবে শুকানোর বিষয়টিতে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া কাপড় শুকানোর পর ইস্ত্রি করে রাখা উচিত। এতে কাপড়ের ছত্রাক নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের কাপড়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। সাদা বা হালকা যে কোনো রঙের কাপড় ভিজে গেলেই পানিতে ধুয়ে নিতে হবে যেন তাতে দাগ বা তিলা না পড়ে। এছাড়া মাঝে মাঝে আলমারি খুলে ফ্যানের বাতাস ঢুকতে দিলে কাপড়ের মধ্যকার গুমোট ভাবটাও কেটে যাবে। অন্যদিকে বর্ষায় আপনার পোশাকে কাদা লাগলে পুরো কাপড় সাথে সাথে ডিটারজেন্টে না ডুবিয়ে প্রথমে আলতো করে কাদা লাগা অংশটুকু ধুয়ে নিয়ে তারপর আলাদাভাবে পুরো কাপড়টি ধুয়ে ফেলতে হবে।